শিল্পের অনুপ্রেরণা যখন নারী - একটি লিঙ্গ রাজনীতির বুনট ।
মধুপর্ণা
(অরন্ধন, দ্বিতীয় বর্ষ, অষ্টম ওয়েব সংস্করণ, ১৬ শ্রাবণ, ১৪২৮, ২ আগস্ট ২০২১ এ প্রকাশিত।) মধুপর্ণা https://arandhansunyadasak.blogspot.com/2021/08/blog-post_79.html
শিল্প সাহিত্য চর্চার দিকে তাকালে
দেখা যাবে শিল্পী অথবা সাহিত্যিক হিসাবে সংখ্যাধিক্য পুরুষের,
অন্তত যারা নিত্য চর্চিত হন। সেখানে চিত্রিত হয়েছেন অথবা বর্নিত
হয়েছেন নারী। সংশ্লিষ্ট শিল্পীর মুগ্ধতা অথবা
যাবতীয় অনুভূতি সেই নারীকে ঘিরে বর্নিত হয়। কবি সাহিত্যিক
আঁকিয়ে যাবতীয় শব্দ গুলো যেন পুরুষের জন্যই তৈরি। তাহলে কি নারীরা শিল্প অথবা
সাহিত্য সৃষ্টি করেন না ? করেন। তাঁরা পরিচিত হন “নারী শিল্পী”, “নারী সাহিত্যিক” বা
“মহিলা সাহিত্যিক” হিসাবে। তাহলে শিল্পী বা সাহিত্যিক এই শব্দগুলির ওপর একাধিপত্য কাদের?
যার আগে জুড়ে দিতে হয় একটি লিঙ্গবাচক শব্দ।
আপাতত আমি যে বিষয়ে বলতে চাইছি, নারীকে “অনুপ্রেরণা” বা মিউজ হিসাবে উপ্সথাপন করার মধ্যে একটি লিঙ্গ
রাজনীতি রয়েছে। বিষয় এবং বিষয়ী - এই সম্পর্কটি অত্যন্ত জটিল। নারীকে যখন সাব্জেক্ট
হিসাবে উপ্সথাপন করা হচ্ছে, তখন যিনি বর্ণনা করছেন তিনি একটি ক্ষমতার জায়গায়
নিজেকে আসীন রেখেছেন। এবং ক্ষমতা কাঠামোর যাবতীয় বিন্যাসের ভিতর থেকে তিনি নির্মাণ
করছেন যে শিল্প সেখানে নারী একপ্রকার লিঙ্গ রাজনীতির শিকার হচ্ছেন। সূক্ষ্ম
ক্ষমতার জালিক বিন্যাস সেখানে বিষয় এবং বিষয়ী একটি ক্ষমতার সম্পর্ক। শিল্পে বা
সাহিত্যে নারীর শরীর, মন, যৌণতা, মনন
সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত “ নারীত্ব” এর জারকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশন করার যে প্রবণতা
তার মধ্যস্থ লিঙ্গ রাজনীতি আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে অনেক সময়ই। অন্তত আমাদের
আস্বাদনের যে অভ্যাস নির্মিত হয়েছে তার আদলের
মধ্যেও রয়েছে প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ বৈষম্যের এবং তৎসংলগ্ন রাজনীতির ছাপ। পুরুষ
শিল্পীর বা সাহিত্যিকের নির্মিত শিল্পের
মধ্যে রয়েছে এই রাজনীতি যা আমরা সাধারণত প্রশংসা ( তোল্লাই) দিয়ে থাকি। বা বলা ভাল
এই ভাবে আস্বাদনে আমরা অভ্যস্ত, আমাদের সাংস্কৃতিক ক্ষমতা কাঠামো আমাদের এই ভাবে
ভাবতে শিখিয়েছে।
চিত্রে, চলচিত্রে, সাহিত্যে তথাকথিত শিল্পের যাবতীয় মাধ্যমে নারীকে অনুপ্রেরণা হিসাবে ব্যবহার এবং তার উপ্সথাপন কিছু প্রশ্ন তৈরি করে। পরবর্তীতে বিশদে আলচনার পরিসর খোলা রইল।
গবেষক, মানবীবিদ্যাচর্চাকেন্দ্র, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
No comments:
Post a Comment