বৃষ্টিদিনের পকেট
মধুপর্ণা
তারপর একদিন সকালে বৃষ্টি হবে খুব। রাস্তায়
ছাতা হাতে বেড়িয়ে দেখবে জলে জলময়। শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। জলে নৌকা ভাসাতে গিয়ে কাকভেজা
হয়ে ফিরে এসে মায়ের হাতে উত্তম মধ্যম খাবার দিন। তারপর ড্যামেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য
সারাদিন পড়াশোনার ভান। পড়তে বসে দিদির সঙ্গে খুনশুটি। স্কেল দিয়ে জায়গা ভাগ, একে অন্যের
বইয়ের পাতা ছিঁড়ে দিয়ে হিংস্রতার হাতে খড়ি। তারপর মা জেনে যাবার আগে সেলোটেপ দিয়ে পাতা
জোড়া। জলে জলময় চারিদিক, স্বচ্ছ জলের নীচে ঘাস। পুতুলের বাক্স। মাটির পুতুলের রান্নাঘরে
কাঁঠাল পাতার লুচি। হোমিওপ্যাথির শিশি থেকে অজানা রোগের অজানা ওষুধ অবলীলায় খেয়ে নেওয়ার
পাপ। তারপর মায়ের দুশ্চিন্তা। বৃষ্টি শেষে সন্ধ্যা হবার আগে আকাশ হয়ে উঠত রঙিন। নানান
ছবি ভেসে উঠত তাতে। আকাশেই দেখা যেত শেয়াল, ডানা মেলা বক, মন্দিরের চূড়া। সেই মাটি
বালি পাথর, জলের ধারা আর শৈশবের বৃষ্টি শেষের আকাশ। এক একটা বৃষ্টি দিনে স্মৃতির পকেট
থেকে বেড়িয়ে আসে ছবি, শব্দ, গান। সময়ের নদী যায় বয়ে। কুমড়ো ফুলের হলুদ রং, গ্রামের স্টেশনারী দোকানে কাঁচের সবুজ চুড়ি, ভিজে উঠোনে ছোট পাখির ঘুরে বেড়ানো, স্কুলে কর্মশিক্ষা পরীক্ষায় রিলিফের কাজের জন্য কুমোর পাড়ায় মাটি আনতে যাবার রাস্তা, রাস্তায় গাছে হনুমান, সাইকেল চালানো শেখার আপ্রাণ চেষ্টা, বইয়ের দোকানে নতুন স্টিকারের খোঁজ, হ্যারি পটারের ছবি দেওয়া খাতা পেয়ে গেলে আনন্দে আত্মহারা অবস্থা, গোলাপ চারা আজ পুঁতে কাল কেন ফুল ফুটছে না - এই মর্মে অস্থিরতা, স্কুলের সেই সব অলৌকিক বেঞ্চ - এই সব দিয়ে গড়া মফস্বলী শৈশব বৃষ্টিদিনে ভেসে ওঠে। বৃষ্টিদিনের বিকেলে আশেপাশের পাড়া থেকে মাঠ থেকে ধরে আনা ছোট ছোট মাছ বিক্রি করতে আসতেন গ্রামের বধূরা।
No comments:
Post a Comment