Wednesday, June 24, 2026

 

                                            বৃষ্টি দিনের কোপাই

                                                 মধুপর্ণা

এক একটা বৃষ্টির দিন মনে হয় বহুযুগের ওপার থেকে এসে পড়েছে এই আষাঢ়ে। ঘন কালো মেঘ ধীরে ধীরে আকাশ ছেয়ে ফেলেছে, ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা। শান্ত হয়ে এসেছে চারপাশ। বড় গাছ  গুলো যেন কিছু বুঝতে পারে, হাওয়া দেয় অদ্ভুতভাবে। তারপর বৃষ্টি নামে ঝমঝম করে। গুলঞ্চ গাছ বৃষ্টিতে ভিজে একসা। নীচে পড়ে আছে একরাশ ফুল। ঘাসের উপরে বৃষ্টি পড়ে। চুপচাপ ভেজে ওরা। শ্রীনিকেতন হয়ে রূপপুরের রাস্তাটা সবুজে সবুজ, বৃষ্টি শেষের বিকেলে ঐ রাস্তা বেয়ে সোনাঝুরি হয়ে কোপাই এক চক্কর দিয়ে আসতে না পারলে অসুবিধা হয়। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কোপাই সবুজে সবুজ। বিশাল লম্বা ঘাসে ছেয়ে গেছে নদীর বুক। চারিদিকে সবুজের রকম আলাদা, তার ভিতর কোপাই বয়ে চলেছে, সবকিছু দেখে, সবকিছু সহ্য করে, সবকিছু নির্বিকারে মেখে। নদীর একদিকে শ্মশান। শান বাঁধানো ঘাট। পাশে নিভে যাওয়া চিতা। পোড়া কাঠ। আগে শ্মশান দেখে ভয় লাগত, কিসের ভয়! ভয় লাগত, ভয় পাওয়া উচিত বলে। তারপর এখন শ্মশানের পাশে বাঁধানো ঘাটে অবলীলায় বসে থাকি। সামনে কোপাই বয়ে যায়, নিভে যাওয়া চিতায় কালো পোড়া কাঠ দেখি চুপচাপ। কোপাই এর জলে ভেসে যায় ফুলের মালা, মৃতের মালা। যাবার আগে শেষ যত্ন তার ভেসে যায় কোপাই এর জলে। বৃষ্টি শেষের ভিজে মাটি কি প্রচন্ড সুন্দর। লতা গুলো ভাঙা প্রাচীর বেয়ে উঠেছে নিপূণ সৌন্দর্য্যে। অমলতাসের অজস্র পাতার ভিতর একটা দুটো ফুল থেকে গেছে ভুল বশত। চায়ের দোকানে বাঁশের মাচায় বসে আছে একটা বিড়াল। পাশে কদম গাছের তলায় বাঁধানো দাওয়ায় বাঊল। চারদিকে উৎসুক কেউ কেউ। দূরে আলুর ক্ষেত। তারও দূরে গাছের সারি, তারও দূরে আকাশ। কোপাই বছরের নানা সময় নানা রূপ নেয়। কখনও শীর্ণ, কখনও জলে জলে এলাকার। কোপাই সূর্যোদয় কোপাই এ সুর্যাস্ত, শীতের কুয়াশাঘন কোপাই, গ্রীষ্মে শুষ্ক কোপাই। বৃষ্টি শেষের কোপাই… শান্ত ধীর।

 

No comments:

Post a Comment

                                            বাদল দিনের ছবি ও গান                                              মধুপর্ণা তারপর পরিচিত বর্ষ...