বাক্স
-ব্যকরণ
মধুপর্ণা
প্রত্যেকের
একটা বাক্স আছে। স্নায়ুর সহন ক্ষমতা, শিক্ষা, রুচি আর মানসিকতা দিয়ে গড়া একটা করে বাক্স।
অন্যকে সেই বাক্সে পুরে ফেলতে চায়। উদ্দেশ্য একটা আছে, কি উদ্দেশ্য? আত্ম প্রতিস্থাপন
আর নিয়ন্ত্রণ। তার আগে একটা সূক্ষ্মধাপ, টলারেন্স চেক। অন্যে কতটা অবধি সহ্য করবে,
কতটার পর চিৎকার করবে অথবা কতটার পর রুখে দাঁড়াবে, অথবা কতটা চাপ দিলে টুকরো টুকরো
হয়ে যাবে আর উঠে দাঁড়াবে না – তার হিসাব নিকাশ। তার মাপে বাক্স গুলোর মাপ বাড়ায় বা
কমায়। মনস্তাত্ত্বিক এই খেলা যদি একবার দেখার চোখ তৈরি হয়ে যায় তাহলে এখান থেকে ফিরে
যাবার আর কোনো পথ নেই। তুমি চোখ বন্ধ করেও দেখতে পাবে। আঁচ করতে পারবে। ইন্টার পার্সোনাল
ডায়নামিক্স। এইটা চোখ থেকে একটা পর্দা সরে যাবার মত। বাইরের পর্দা আর আড়ালটা সরে গেলেই
দেখতে পাবে জম্বি, ভ্যাম্পায়ার আর শিকারীর দঙ্গল। চামড়ার নীচে সূঁচের মত কিছু একটা
ফুটতে থাকার অনুভূতি যদি তোমার হয়ে থাকে তাহলে তুমি চিনে যাবে ধীরে ধীরে নানান বাক্স
-ব্যকরণ। কিছু বই যেমন আমরা স্বেচ্ছায় পড়ি না, বাধ্য হয়ে পড়ি, হাঁটতে হাঁটতে কয়েকটা
মানুষ তোমাকে কিছু বই খুঁজে বের করতে বাধ্য করবে, পড়তে বাধ্য করবে। যেমন নার্সিসিজম,
সাইকোপ্যাথ, আর সোশিওপ্যাথ বিষয়ে পড়তে জীবনে কোনো না কোনো সময় তুমি বাধ্য হয়ে থাকো,
তাহলে তোমার বাস্তবের বিশ্বরূপ দর্শন হয়েছে, তোমাকে অভিবাদন। যেই পর্দাটা সরে গেল অমনি
তুমি দেখবে পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন। প্রথমবার দেখার অভিজ্ঞতা তোমার মোটেই সুখকর হবে না,
এই আবিষ্কার ভয়ংকর লাগবে। তারপর যখন ধাতস্থ হবে, তখন হাসি পাবে। তারপর শিখে যাবে আঘাতের
বদলে প্রত্যাঘাত করতে। আনুগত্য আর নিয়ন্ত্রণের ভিতরের নকশা তুমি যেদিন বুঝতে পেরে যাবে
সেদিন থেকে একটা মুক্তির অধ্যায় শুরু। বুঝে যাবে, আত্মপ্রতিস্থাপনের সূক্ষ্ম ইচ্ছা
অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে পারলে আত্মশ্লাঘার একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করে অনেকে। আত্মস্যাত
করার একটা প্রবণতা খুব সূক্ষ্ম স্রোতের মত চলতে থাকে, একটা সময় তোমাকে মানুষের ভিতরের
অন্ধকার চেনাবে, এই শিক্ষানবিশির সময়টি খুব যত্ন করে শিখতে হয়। খুব যত্ন করে প্রতিটা
ধরণ, প্রতিটা অন্ধকারকে জানতে হয়। প্রত্যেকের অন্ধকার আর লালিত বাক্স গুলি যত্ন করে
জানতে হয়। নরম মাটি দেখলে বিড়াল সেখানে আঁচড়ায়… শক্ত মাটিকে সমঝে চলে। তোমার পুর্ব
সংস্কার তোমাকে দেখেও না দেখার ভাণ করতে শিখিয়েছে, শিখিয়েছে কিভাবে কাদা না ঘাঁটতে
হয়, কিভাবে আলোর দিকে তাকাতে হয়। কিন্তু সেখান থেকে তোমাকে নামিয়ে কাদা মাখাবেই, বেশ
কাদাই যখন মাখতে হবে, তখন কাদার ব্যকরণটা জানো ভালো করে। তারপর দেখবে জায়গায় জিনিস
জায়গায় চলে গেছে। তোমার প্লেটে পরিবেশিত হবে অনেক খেলা, এবং বলা হবে, ‘এটাই তোমার খেলা,
এটাই তোমায় খেলতে হবে’। তুমি এবার করবে কি সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে সেই খেলাটা খেলতে
শুরু করবে। কিন্তু তুমি স্বাধীন মানুষ, তোমার স্বাধীনতা আছে এইকথা বলার, আমি নিজে পছন্দ
করব এই স্বল্প জীবতকালে কোন খেলাটা খেলতে চাই, আর কি কি কেটে বাদ দিতে চাই। বা আদৌ
তুমি পাশাখেলায় অংশ নিতে চাও না। এই গুলো জেনে যাওয়া আর না জেনে থাকার মধ্যবর্তী দূরত্ব
অনেকখানি।
No comments:
Post a Comment