Thursday, July 23, 2026

 

                                                   নিমগাছ’ গল্প - একটি পাঠ

                                             মধুপর্ণা কর্মকার

 নিমগাছ 

 বনফুল

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।

পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ।

কেউ বা ভাজছে গরম তেলে।

খোস দাদ হাজা চুলকুনিতে লাগাবে।

চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।

কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।

এমনি কাঁচাই…..

 

কিংবা ভেজে বেগুন- সহযোগে।

যকৃতের পক্ষে ভারী উপকার।

কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক…। দাঁত ভালো থাকে।

কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুসী হন।

বলেন-“নিমের হওয়া ভাল, থাক, কেটো না।”

কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।

আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।

শান দিয়ে বাধিয়েও দেয় কেউ- সে আর এক আবর্জনা।

হঠাৎ একদিন একটা নূতন ধরণের লোক এল।

মুগ্ধ দৃষ্টিতে বেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙ্গলে না। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।

বলে উঠলো, “বাঃ কি সুন্দর পাতাগুলো…..কি রূপ। থোকা থোকা ফুলেরই বা কি বাহার….এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাঃ–”

খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।`

কবিরাজ নয়, কবি।

নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না।মাটির ভেতর শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।

ওদের বাড়ীর গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্ণী বউটার ঠিক এই দশা।

 

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুলের লেখা  ‘নিমগাছ’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যে রূপক গল্পের  একটি অনন্য উদাহরণ। অত্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই গল্পটি আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থান নির্মম ভাবে তুলে ধরেছে । ভারতীয় সমাজে নারীরা সাপেক্ষ মানুষ । নিজস্ব কোন গুরুত্ব সে পায় না । তার গুরুত্ব কেবল মাত্র উপযোগীতায় । সে কতটা পরিবারকে পরিষেবা দিতে পারছে তার উপর নির্ভর করে তার গ্রহনযোগ্যতা ।

ছাব্বিশ লাইনের এই  গল্পে লেখক  একটি নিমগাছের কথা বলেছেন পঁচিশ লাইন জুড়ে । শেষ একটি  লাইনে একটি গৃহবধুর কথা বলেছেন । এই কাঠামোটি গল্পের মূল বক্তব্য অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাবে তুলে ধরেছে ।  নিমগাছ বাংলায় খুব পরিচিত একটি গাছ । কোনো  রকম পরিচর্যা ছাড়াই  বেড়ে ওঠে যত্রতত্র। বিস্তর ডালপালা নিয়ে বৃক্ষে পরিনত হয়। এই গাছের সবকিছু সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মানুষের কাজে লাগে । শুধু কাজে লাগে তাই নয় যারপরনাই উপকারী ।

গল্পটা শুরু হচ্ছে ছোট ছোট লাইন দিয়ে । প্রতিটা লাইনে দেখা যাচ্ছে নিমগাছকে  নানাজন নানাভাবে  ব্যবহার করছে।  লেখক যেভাবে লাইন গুলো লিখছেন তাতে গাছের প্রতি কারো কোনো মায়াদয়া নেই । খুব রুক্ষভাবে গাছটিকে ব্যবহার করছে । গাছটিকে কোনোভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছে না । কিন্তু প্রয়োজনে  গাছ থেকে রুক্ষভাবে  দরকারী যা কিছু নিচ্ছে । “ কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সেদ্ধ করছে ,

                            পাতা গুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ,

                             কেউ বা ভাজছে গরম তেলে”

গাছটির প্রতি  যে কোনো সমবেদনা ছাড়াই তাকে কেবল ব্যবহার করা হচ্ছে , শোষণ করা হচ্ছে তা  লাইন গুলির   ভঙ্গীতে স্পষ্ট। চর্মরোগের  ঔষধী হিসাবে  নিমপাতা অব্যর্থ তাই অনেকে তা নিয়ে যাচ্ছে । কাঁচা পাতাও  উপকারী তাই খাচ্ছে অনেকে । বেগুন দিয়ে ভেজে খেলে  যকৃতের পক্ষে ভাল তাই খাচ্ছে অনেকে । কচি ডালপালা ভেঙ্গে চিবোয় অনেকে কারন দাঁত ভাল থাকে তাতে। কবিরাজরা এই গাছের ঔষধী গুনের জন্য প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিজ্ঞরা এই গাছে দেখে খুশি হয় । এই গাছের যেহেতু কোনো পরিচর্যা লাগে না তাই বাড়ির পাশে এমনিই গজালে  তাঁরা বলেন – “ নিমের হাওয়া ভাল, থাক, কেটো না” যাকে কোনো কিছু দিতে হয় না অথচ যার কাছ থেকে পাওয়া যায় অসামান্য উপকার  সেই সব জিনিসপত্র  নিদ্বিধায় ভোগ করার মধ্যে যে অশ্লীলতা আছে তা এই  মনোভাব থেকে বোঝা যায়। এখানে যারা নিমগাছটিকে ভোগ করছে   তারাও এই মনোভাবের বশবর্তী হয়েই করছে। নিয়ে যাচ্ছে বিনিময়ে কিছু দিচ্ছে না । এমনকি তার সংগে নূন্যতম সহৃদয় ভাবে ব্যবহার করার কথাও তাদের মনে হচ্ছে না। তাই  এই গাছ তারা “ কাটে না,কিন্তু যত্নও করে না”  বিনা পরিশ্রমে  বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে যেহেতু তাই তা নেহাত অবহেলায় ফেলে রাখে আর  দরকারের সময় সর্বস্ব নিঙড়ে ব্যবহার করে । যাতে  আরো ভাল ভাবে ব্যবহার করতে পারে  তাই শান দিয়ে  বাঁধিয়ে দেয় । শান দিয়ে বাঁধিয়ে  দেওয়া   সেটাও গাছের স্বার্থে নয় ,  নিজেরা যাতে ভাল ভাবে ব্যবহার করতে পারে সেইজন্য ।  যাতে নীচে বসে  হাওয়া খেতে পারে ।  এতদিন পর্যন্ত  তাকে সবাই দেখেছে  ব্যবহারের জন্য। 

“হঠাত একদিন একটা নূত্ন ধরনের লোক এল”।

মুগ্ধ দৃষ্টিতে বেয়ে রইল নিমগাছের  দিকে । ছাল তুললে না , পাতা ছিঁড়লে না , ডাল ভাঙ্গলে না । মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু। বলে উঠলো, “বাঃ কি সুন্দর পাতাগুলো... কি রূপ। থোকা থোকা  ফুলেরই বা কি বাহার ... এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে ।বাঃ – ‘’

কিছুক্ষন থেকে দেখে সে চলে গেল । “কবিরাজ নয়, কবি” কবিরাজ কেবল  গাছকে দেখে উপযোগীতার ভিত্তিতে। কিন্তু  কবি এসে তাকে দেখল শুধু মাত্র একটি সুন্দর গাছ  হিসাবে ।  তার যে শুধুমা্ত্র গুরুত্ব উপযোগিতায় নয় সে নিজেও একজন কেউ তা কবির চোখে ধরা পড়ল।  এই প্রথম কেউ তার কাছ থেকে  কেউ পাতা বা ডাল ছিঁড়ে নিল না , এই প্রথম কেঊ তাকে কিভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে এই নিয়ে কথা বলল না । তার অস্তিত্ত্বকে সম্মান দিল । এরপর লেখক লিখছেন – “

“নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়  ।কিন্তু পারলে না । মাটির ভেতর শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে । বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তুপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে”

যে লোকটা  তার অস্তিত্বকে সম্মান করেছে   তার সাথে সে চলে যেতে চেয়েছে । কিন্তু পারে নি । কারন শিকড় অনেক দূর চলে গেছে । কিন্তু সে চিনেছে  যে কে তারকে ব্যবহার করে আর কে তাকে মূল্য দেয় । তারও যে উপযোগীতা ছাড়া কোনো মূল্য আছে তা কেঊ কোনোদিন তাকে বলে নি । কবিই প্রথম বলেছে ।  কিন্তু তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হল আবর্জনার স্তুপের মধ্যেই ।

 ঠিক এরপর লেখক লিখলেন আর একটি মাত্র লাইন ।

“ওদের বাড়ীর গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউটার ঠিক এই দশা”

  এই লাইনটা পড়ার পর পাঠককে আবার গল্পের প্রতিটা লাইনে , প্রতিটা কথায় ফিরে যেতে হয় । ফিরে গিয়ে  নিমগাছের  পাশাপাশি আরো একজনের গল্প নিঃশব্দে পড়ে আসতে হয়। আবার এসে দাঁড়াতে হয় শেষ লাইনটাতে। তারপর গল্পপাঠ শেষ হয় । গল্পটাকে এবার যদি বাড়ির “গৃহকর্ম নিপুণা” বৌটির গল্প হিসাবে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে  এই গল্পে নিমগাছের রূপকে লেখক নিঃশব্দে বলে গেছেন একটি নারীর গল্প ।  যাকে পরিবারের সবাই ব্যবহার করে। কিন্তু বিনিময়ে কিছু তাকে দেয় না । এই একপাক্ষিক পরিষেবা চলতে থাকে জীবনভোর । নীরবে অন্যের সেবা করে যাওয়া ছাড়া আর কিছু যেন তার করার নেই । তার যেন নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই । সে কেবল অন্যের সেবা করার জন্য আর অন্যের দরকার মেটানোর জন্য  অন্যের কাজ করে দিয়ে নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করার জন্যই জন্মেছে । তার এর বাইরে আর কোনো  অস্তিত্ব নেই । সে  যেন নিজে কেউ নয় । তার  অস্তিত্ব কেবল অন্যের উপযোগীতায় সে সাপেক্ষ প্রাণী । অন্যের সাপেক্ষে তার বেঁচে থাকা । তাকে কেউ চায় না , চায় কেবল তার  পরিষেবা ।

নারীর শ্রম থেকে যায় অস্বীকৃত। জীবনভোর তার শ্রমের কোনো মূল্য সে পায় না। একদিকে তার শ্রমের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা বা কৃতজ্ঞতা প্রদর্শিত হয় না অন্যদিকে সারাজীবনের এই শ্রমের বিপুল যে অর্থমূল্য সেটিও সে পায় না ।কিন্তু তার শ্রমের মাধ্যমে টিকে থাকে পরিবার আর সেই বার্তি শ্রম কিভাবে আমাদের অর্থনীতির চাকাকে পুষ্টি যোগায় তা গবেষকরা ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন।এই অদৃশ্য শ্রম আমাদের সমাজকে নীরবে চলমান রাখছে। কিন্তু সেটা নীরব কেন ? তার কারন এই শ্রমের যে মূল্য আমরা তা দিতে নারাজ, পিতৃতন্ত্র দিতে নারাজ। তার বিনামূল্যের শ্রম আমাদের সমাজের কাছে উপাদেয়। এই রাজনীতির মধ্যে একদিকে যেমন সুবিধাভোগের নগ্নতা স্পষ্ট অন্যদিকে নারীকে মানুষের মর্যাদা দিতেও সমাজের অসুবিধা হয় তা বোঝা যায়। তাকে কিছু দেবার কারো নেই । এমনকি তার প্রাপ্য টুকু তো নয়ই এমনকি তার নূন্যতম দরকার গুলিও নয়। তার কাছ থেকে কেবল নেওয়া যায়। কোনো কৃতজ্ঞতা ছাড়াই কোনো মূল্য ছাড়াই অবারিত হস্তে কেবল তার কাছ থেকে নেওয়া যায়। এই আনপেইড লেবার অদৃশ্য কিন্তু তার উপভোগ সমাজের সর্বত্র বর্তমান, তার সুফল আমাদের অর্থনীতিতে বর্তমান। কিন্তু তার স্বীকৃতি নেই। কেন নেই ? তার কারন অদৃশ্য থাকলে  সমাজের সুবিধা , পিতৃতন্ত্রের সুবিধা। এতে তার লাভ অনেক বেশি। শিলা রোবথামের একটি কথা এই প্রসংগে মনে পড়ে যায়  - “ উইমেন আর দ্য লাস্ট কলোনি” তাদের সম্মতি ছাড়াই তাদের ব্যবহার করা হয় কোনোরকম বিনিময় মূল্য ছাড়া । একপাক্ষিক শোষণ। তবে কখনও কখনও যে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না তা নয়। বলা হয় “ লেবার অফ লাভ” এইটাও এক ভয়াবহ রাজনীতি। যার শ্রমের কোনো মূল্য দেওয়া হবে না কিন্তু বলা হবে ভালোবাসার জন্য শ্রম। পরিবারকে, পরিবারের লোকজনকে, স্বামী পুত্রদের ভালোবেসে এই শ্রম যেন সে স্বেচ্ছায় দিয়ে নিজেকে সার্থক করে তুলছে। এখানে দেনাপাওনা বা আর্থিক মূল্যের কোনো প্রশ্ন যেন আসতেই পারে না। এই মিথ্যা ভাবালুতায় নারীকে ভূলিয়ে রেখে তার শ্রমের অপব্যবহার করে আসছে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। বাড়ির গৃহিনী দিনরাত কাজ করার পর ও থেকে যান বেকার , উপার্জন তারনেই একটি টাকাও।নগদ টাকা খরচ করা , নিজের জন্য কিছু কেনার কোন অভ্যেস তার তৈরি হয় না । কিন্তু শ্রম তিনি দিয়ে যান উদয়াস্ত। গল্পে যে নারীটির কথা দেখি তিনি ও তাঁর মত সহস্র নারী পরিবারে বিনামূল্যে শ্রম দিয়ে সমাজকে সচল রেখেছেন কিন্তু তার কোনো যথাযথ মূল্য অনেক দূরবর্তী নূন্যতম সম্মান ও মর্যাদা তাঁরা পান না।

এই ভয়ঙ্কর আচরণ যে শুধু নারীর ক্ষেত্রে এমনটা নয়। এখানে  নিমগাছের রূপকে একটি নারীর গল্প বলা হয়েছে বলা হচ্ছে বটে  কিন্তু  গাছের প্রতি  মানুষের ব্যবহার ও ভয়ানক। এটা শুধু একটি নারীর গল্প হিসাবে নয় একটা গাছের গল্প হিসাবেও দেখা যায়। কোনো কৃতজ্ঞতা ছাড়াই কেবল  ব্যবহার করা ক্যাপিটালিস্ট প্রবণতা । প্রকৃতির প্রতিও আমাদের ব্যবহার প্রায় এরকমই । আমরা কেবল যথেচ্ছভাবে নিই আমাদের সুবিধার জন্য। শুধু নিই তাই নয়, দরকারের বাইরেও নষ্ট করি । কিন্তু তাকে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা বা কৃতজ্ঞতা আমরা প্রদর্শন করি না। বিনামূল্যে নিয়ে যথেচ্ছ আকারে নষ্ট করে নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করে নিজেরা মানবসভ্যতার জয় ঘোষনা করি। মানবসভ্যতা মূলত গড়ে উঠেছে প্রকৃতির সঙ্গে বৈরিতার সম্বন্ধে। পারস্পরিকতায় নয়। তারফলে আমাদের সভ্যতার যে মূল দর্শন সেখানেই আছে প্রকৃতির প্রতি আমাদের একপাক্ষিক ব্যবহারের অভ্যেস। তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজে, অভ্যাসে প্রতিফলিত হয় এবং সভ্যতার সন্তান হিসাবে হবারই কথা। এবং সেই একই ব্যবহার আমরা করে থাকি নারীদের ক্ষেত্রেও।এই ব্যবহারের উৎস হয়তো একই। ইকো ফেমিনিস্টরা সেইরকমই বলে থাকেন। প্রকৃতি ও নারীকে একদিকে রেখে তাদের একাত্মতার সূত্র উপ্সথাপন করা যায়। অন্যদিকে যারা রয়েছে তারা উপভোক্তা মাত্র। কোনোরকম  কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি ও পারস্পরিকতা ছাড়াই অন্যকে ব্যবহার করা করার সংস্কৃতি যার মজ্জাগত। এই গল্পের নিমগাছ ও বাড়ির বৌটির প্রতি উপভোক্তাদের ব্যবহার  একইরকম। একটি নিমগাছের রূপকে গল্পকার আমাদের সমাজে গৃহবধূদের অবস্থা ও অবস্থান চিহ্নিত করেছেন। শুধুমাত্র নারী নয়, প্রকৃতি ও নারী  উভয়েই আমাদের সমাজে সমান ভাবে নিগৃহীত ও অপব্যবহৃত। প্রাকৃতিক সম্পদ মানব সভ্যতা যেমন  আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করেছে ও তছনছ করেছে তেমনি নারীর প্রতি ব্যবহারও চূড়ান্ত বৈষম্যমূলক। নারীর শ্রম বিনামূল্যে, কোনো কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা ছাড়াই পরিবার ব্যবহার করে আসছে। তার পরিষেবা দেবার ক্ষমতা আর উপযোগিতাতেই তার অস্তিত্ব নির্ভর করে । ঠিক তেমনি প্রকৃতির সঙ্গে সভ্যতার সম্পর্কটিও একপাক্ষিক ব্যবহারের। একটি ছাব্বিশ লাইনের অনুগল্পে লেখক প্রকৃতি ও নারীর প্রতি সভ্যতার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজের  বৈষম্যমূলক সম্বন্ধ যেভাবে উপ্সথাপন করেছেন।

 

২০২২

 

 

 

No comments:

Post a Comment

                                         নদীর পাড়ে  দেহঘর                                                মধুপর্ণা   একটা কোলাজ কে সাজায়,...