Saturday, August 8, 2026

 

                                       নদীর পাড়ে  দেহঘর

                                             মধুপর্ণা 

একটা কোলাজ কে সাজায়, কোপাই এর পাশে পাহাড়ী বাঁকা পথ, তারপাশে অনন্ত শয্যায় মহাদেব, যোগীর গায়ে ভস্মমাখা, তারপাশে চিতার জলন্ত আগুন, তার পাশে ছাই, তারপাশে প্রাচীন বাংলা ভাষা চাদরের মত জড়িয়ে বসে আছে এক বালিকা, তারপাশে বয়ে যায় পাপনাশিনী গঙ্গা, তার পাশে নবীন সন্ন্যাসীর এককাপড়ের সংযম, তারপাশে মালসা ভোগ রাঁধে চিরনবীনা বাঊলানী। কি এক টানে উজানে মসগুল তাহার চিত্ত। তার পাশে পঞ্চশতকীয় পদাবলীকার তুলোট কাগজে লিখে যাচ্ছেন কথা, অথবা কথার ছবি, অথবা কথার সুর। তারপাশে এ আই তারপাশে চ্যাটজিপিটি। তারপাশে  নীল রঙের লেজ ওয়ালা টেক যন্ত্রমানব। অসংলগ্ন এই কোলাজ কে সাজায়, কে সাজে ! অজয়ের পাড়ে বাঁশির সুর বাতাসে উড়ে যেতে যেতে পাখি হয়ে যায়, সমাজচ্যুত এক মানবীর অট্টহাসি হঠাত ভেসে যেতে যেতে নৌকা হয়ে যায়, তাতে চড়ে বসে কয়েকটি বালিকা। সেই নৌকা ভেসে যায় সেতারের তার বেয়ে, কে বাজায় সেই সেতার? সন্ন্যাসিনীর নরুন পাড় শাড়ির আঁচলে সকালের ফুল, সুগন্ধ পথে যেতে যেতে থমকে দাঁড়ায়… মাটি কুড়িয়ে নেয়। রাঙা মাটির রং দিয়ে উত্তরীয় রাঙায়। তারপাশে পোড়া কাঠের বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলোচুলের কেউ। লকলকে তার জীভ। তার নিঃশ্বাস আগুন হয়ে যায় বাতাসে ঘষা লেগে। লেলিহান শিখা তার। বনে লেগে যায় আগুন। আগুনের ছোট ছোট কণা মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে পলাশ হয়ে, শিমুল হয়ে, আর বসন্ত বৌ হয়ে। আর সেই আগুনের তাপে মালসাভোগের পঞ্চতত্ত্ব সেদ্ধ হয়ে যায় বাউলানীর দোচালায়। শক্তিসাধিকার নরম চোখের দৃষ্টি যেখানে পড়ে সেখানে প্রকট হয়ে যায় কিছু, আকার নিয়ে নেয় ভেসে বেড়ানো কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস আর আনন্দ। একটা নদী বয়ে যায় কাল ভেদ করে তার তার তীরে স্থির দাঁড়িয়ে থাকে ধনুকের ছিলার মত, এক যোগিনী। চোখের সামনে বয়ে যায় সময়ের বায়বীয় নদী। চোখের পাতা পড়ে না। স্থির অনড়।

No comments:

Post a Comment

                                            বাদল দিনের ছবি ও গান                                              মধুপর্ণা তারপর পরিচিত বর্ষ...