Monday, August 10, 2026

 

 

                                           যোগিনী তোমাকে …

                                            মধুপর্ণা কর্মকার

 

অগ্যস্ত মুনির নারী সংস্করণের সঙ্গে দেখা। "দাঁড়াও মন অনন্ত ব্রহ্মান্ড মাঝে... এই বিশ্ব মহোৎসব দেখি মগন হল সুখে কবি চিত্ত ভুলি গেল সব কাজ" গাহিতে গাহিতে হাঁটিতে হাঁটিতে আসিয়া বসে। পিছন ফিরিয়া না দেখার আশ্চর্য শিক্ষা তাহাকে কে বা কাহারা শিখাইয়াছে বলিতে পারি না। কিন্তু শিখিয়াছে যত্ন করিয়া তাহা পরিস্কার। বলিয়া বসে, পিন্ডদান দেখিয়াছ? পিন্ডদান করিয়া কেহ পিছনে দেখে? বলি দেখি নাই, দিয়াছি পিন্ড বহু। দেখার সুযোগ হয় নাই। ঠা ঠা করিয়া হাসিয়া উঠে যোগিনী। বলি, কর্দমবৃত্তি কি জানো ? সে হাসে, চোখে মুখে হাতে পায়ে চুলে যত ভাবে হাসা সম্ভব। সমস্ত অস্তিত্ত্ব জুড়িয়া হাসে। আমারো হাসি পায়। যোগিনীর মুখের ভাষা কর্কশ, অশ্লীল, অশিষ্ট। নানা প্রকারে গালিগালাজ করিয়া সে আন্তরিকতা প্রকাশ করিয়া থাকে। ভগিনী জ্ঞান করিয়া সে নাকি গালি দিয়া থাকে। সে নাকি অশিষ্ট কথা বলিয়া বুঝাইয়া দেয় সামনের জন তাহার কতখানি আপন। বলি, এ কেমন ব্যবহার! সে বলে, ধুর মাগী… হাসির কান্ডকারখানা কি কম! না হাসিয়া পারি না। যাহারা আমারে বাঁধিতে চাহিয়াছিল হাসিয়া তাহাদের বাতাসে উড়াইয়া দিয়াছি, আর তুই আমাকে হাসি থামাইতে বলিস? তাহার হাসির সামনে আমার ভয় ধরিয়া যায়, এইরকম তো স্বয়ং কালী হাসিয়া থাকেন, ছিন্নমস্তা নিজের মুন্ড কর্তন করিয়া নিজের রক্ত পান করিতে করিতে কি হাসিয়া ছিল, জানা নাই। যোগিনী রগঢ় করিতে পারে বিস্তর। বলিল, না হাসিতে পারিলে বাঁচিতে পারিবি না, বিধর্মীতে, রাক্ষসে ফাঁদ পাতিলে হাসিয়া উড়াইয়া দিবি। হ্যাঁ কর্দমবৃত্তি কি বলিতেছিলি? বুঝাইয়া বল। বলি, কাদা লাগিল ধরো পায়ে, তুমি পা ছুঁড়িতে থাকো কাদা ছাড়াইতে। তুমি কাদা ছাড়াইতে চাহ আর কাদা তোমার পা ছাড়ে না। এই যে বিরক্তিকর সমীকরণ তাহাকে বলে কর্দমবৃত্তি। যোগিনী বলে, ওঝা দেখিয়াছিস, বেদেনী দেখিস নাই? বলি না। যোগিনী বলে, বিষ ছাড়াইতে জানিতে হয়, গুপ্ত বিদ্যা কিছু আছে, বিষদাঁত উঠাইয়া ফেলিতে জানিতে হয়। জানিয়া গেলে আর কেহ বিষ ঢালিতে আসিবে না। বলি, এই সব জানিয়া তুমি ধাতস্থ হৈয়াছ! যোগিনী বলে, শুধু সুন্দরের সাধনা করিয়া কেহ গন্তব্যে পৌঁছয় না, খানা খন্দ, অসুন্দর, আস্তাকুড় পার হৈতে হয়, সেকথা জানো কি? বলি, জানি। যোগিনী গান গাহে, গান লিখিয়া সে সুর বসায় না, তাহার সুষুম্নাকান্ড বাহিয়া সুর ভাসিয়া আসে, আসিবার পথে কথা কিছু সংগ্রহ করিয়া আনে, আর তাহাই সে আপনমনে গাহিতে থাকে। গান গাহিতে গাহিতে সে হাঁটিতে থাকে, কি এক দুনিয়ার সন্ধান পাইয়া তাহার কাটিয়া গিয়াছে শিকল, কাটিয়া গিয়াছে তাহার ভবের বেড়ী।

No comments:

Post a Comment

                                                    বৃষ্টিদিনের পকেট                                                          মধুপর্ণা  ...