সাক্ষাত
সমাচার
মধুপর্ণা
যোগিনীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বদলাইয়া যায় মানুষ।
ক্ষমতার চাইতে শক্তি কতটা জরুরি জানিয়া যায়। একটি স্বচ্ছতা তাহাকে নদীর জলের মত স্বাধীন
করিয়া তোলে। যোগিনীর সংস্পর্শ পরশমনির ন্যায় সক্রিয়। স্পষ্ট প্রজ্ঞা তাহাকে করিয়াছে
কালদর্শী। তাহার মগ্নতা দেখিয়া এক এক সময় স্তব্ধ হৈয়া যাই। সে জিজ্ঞাসে, কি রে তোর
এতেই দম শেষ? বলি এত কর্কশ কেন তুমি? সে বলে, তুই নরক দেখেছিস? বলি, দেখি নাই, তবে
আঁচ পাইয়াছি। নরকের কীট কিছু আক্রমণ করিয়াছিল তাহাদের নারকীয় ব্যবহার দেখিয়া ধারণা
পাইয়াছি নরক কেমন হইতে পারে। যোগিনী উৎসুক হৈয়া চোখ সরু করিয়া তাকায়। চুপ করিয়া থাকে।
তাহার পর ধীরে ধীরে বলে, অভিজ্ঞতা এমন জিনিস সকলের ভাগ্যে জোটে না। তুই নরক দেখিয়া
উঠিয়া আসিয়াছিস ইহাতে বোধ হয় তোর কিছু পূণ্যফল আছিল রে। বলি, শক্তির ব্যকরণ শিখিয়াছি।
সে হাসিতে থাকে, আমার বিরক্তি ধরিয়া যায়, তুমি হাসো কেন? কি বেদনা ভিতরে তোমার তাই
হাসি পায় এত? ইহাতে সে চটিয়া যায়, বলে, দূর হ। আমার সম্মুখে আসিস না আর। এতদিনে জানিয়াছি
তাহার আচার ব্যবহার, তাই চুপ করিয়া যাই। এই মুহুর্তে চলিয়া যাইলে যোগিনী চুল ধরিয়া
টানিয়া আনিয়া সামনে বসাইয়া অতীত ভবিষ্যত উদ্ধার করিয়া দিবে। আর যদি চুপ করিয়া বসিয়া
থাকি তাহা হৈলে কিছুক্ষন পর বলিবে, নরক যে কামড় বসাইয়াছিল তাহার দাগ আমি মুছিয়া দিব।
তুই কিঞ্চিত ধৈর্য্য ধরিতে পারিবি? তাহাকে ভালো না বাসিয়া উপায় নাই। বলি, তুই এত রুক্ষ
রূঢ়, তোকে ভয় লাগে। সে পারিলে হাসি দিয়া স্নান করাইয়া দেয়। তাহার হাসিতে ভিজিয়া বসিয়া
থাকি কিংকর্তব্যবিমুঢ়। হাওয়ার ভিতর কি যেন সূত্র খুজিয়া পাইয়া বলে, জন্মিয়াছিস শক্তি
লৈয়া, ক্ষমতার দাবানল দেখিয়া বেভুলে কেন নিজের সাধনা ভুলিস! কি কারন! বলি, ভুলি নাই, কিন্তু প্রতিশোধ লৈতে চাই। তাহার চোখ দপদপ করিয়া জ্বলে, মুন্ড কাটিয়া রক্ত মাখিয়া নাচিতে ইচ্ছা যায়, ছেমরি! একটা মশাল জ্বলাইয়া রাখ নিভিতে দিবি না। একদিন আসিবে। একদিন আসিবে। কোমলতার নাটক করিয়া কেহ কিছু অর্জন করে না। দম থাকিতে হয় দম। বলি, তুই এই শক্তি পাইলি কি প্রকারে? সে বলে, নরকের ভিতর।
No comments:
Post a Comment