দৃশ্য সংস্কার
মধুপর্ণা
তারপর একদিনের পর দুইদিন তার সঙ্গে বছর যোগ করে যে ধারাবাহিকতা তার প্রতি অসীম মমতা এসে জুড়ে যাবে। একদিন দেখা যাবে, পিঠে যারা অসংখ্য তীর বিঁধিয়ে রেখেছিল সেইসব তীরের ক্ষত আর নেই। দেখা যাবে, কাজের সঙ্গে কাজ জুড়ে যে শৃংখলা তার সমাহার বড় সুন্দর। দেখা যাবে নতুন টাস্ক এসে দেখে দিলে উতসাহে ভরে যায় অন্তর বাহির। শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো স্কুলের বিষয়ে কথা বলার মত একটা আবেগ এসে ধুয়ে দিয়ে যাবে যা কিছু ধুয়ে ফেলে দেবার মত। ঘুরতে ঘুরতে গল্প থেকে একটা দৃশ্য এসে চোখে এসে বিঁধে যাবে। মেঘমল্লার গল্প যারা পড়েছে তারা জানে প্রদ্যন্মের বাঁশবনে পাথর হয়ে যাবার দৃশ্যের বেদনা, তারা জানে বাঁশবনে শনশন করে হাওয়া বয়ে যাবার কথা ভেবে কেমন অনুভুতি হয়। সেদিন মহুয়া গাছ খুঁজতে খুঁজতে পিয়ারসন পল্লীর ভিতর কতদূর চলে গেছি খেয়াল নেই, একটা দৃশ্য এসে সামনে দাঁড়ায়, বিদ্ধ করে দেয়। কে দাঁড়িয়ে ওখানে! কে ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে! বাঁশবাগানের ভিতর! কোথায় যেন দেখেছি এই দৃশ্য, বহুবার ভেবেছি! তারপর মনে পড়ে বিভূতিভুষন বাঙালীকে শুধু গদ্য আর আখ্যান দেন নি, দিয়েছেন দৃশ্যের সংস্কার। দেবী সরস্বতীকে করাল বায়বীয় কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়ে প্রদ্যম্ন পাথর হয়ে গিয়েছিল। জঙ্গলের ভিতর বাঁশ বাগানে হু হু করে হাওয়া দিত আর দূর থেকে মনে হত যেন বাজছে মেঘমল্লার। সেইরকম একটা সুর কি এই ভরদুপুরে বেজে উঠল! না। কিন্তু দৃশ্যের ভিতর থেকে জমে থাকা মস্তিস্কের পুরোনো আর্কাইভ থেকে আরো একটা দৃশ্য টেনে আনল। আর কিছু না হয়তো।
No comments:
Post a Comment