অথ যোগিনী কথা
মধুপর্ণা
যোগিনী আজকাল
অদ্ভূত মগ্নতায় ডুবে থাকে, পড়ন্ত বিকেলে বলে বসে, তারপর তুমি বুঝে যাবে সারল্য যারা
অপব্যবহার করে, ভদ্রতাকে যারা দূর্বলতা ভাবে প্রকৃতি তাদের ক্ষমা করে না। শুধু চুপচাপ
দেখে যাবার ধৈর্য্য থাকতে হবে তোমার। বলি, আর ওভার পাওয়ারিং এর পাপ! যোগিনী মৃদু হাসে,
যারা ভেবেছিল, “ অন্যায় আর মিথ্যা প্রতিষ্ঠাযোগ্য তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেতে
সময় লাগে না।“ তারপর একদিন সন্ধ্যেবেলার মৃদু বাতাস আর আবছা আলোছায়া বলে যাবে ঈশ্বরাভিমুখীকে
আটকে রাখার ক্ষমতা কারো থাকে না। এই দরিয়া উত্তাল, শক্ত হাতে যে মাঝি নাও বায়, তাকে
তরী ভীরে যায় গন্তব্যের কিনারে। ক্ষমতা এমন এক সূক্ষ্ম সুতো যে চেনে খাদের কিনার। অপব্যবহারের
ব্যকরণ তোমাকে উচ্চতা চেনায় আর চেনায় খাদের অতলান্ত। স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দের কথা শুনতে
শুনতে মনে হয়, চুপচাপ দেখে যাওয়ার মত শান্তি নেই, যার যা দেখানোর আছে দেখে যাও, চুপচাপ,
নির্বিকার। যোগিনী বলে, গল্প জানিস একখানা? হিমবান পর্বতে একান্তে ধ্যান করেছিল কৈশিকী, আর তাকে
টলাতে পারে নি অসুরেরা। দেবী কৈশিকীর শিক্ষার বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছিল দুইদিক জেনে। একদিকে
আলো ফেলে জানা যায় না সমগ্র, তাই তাহার পরীক্ষা ছিল দুইদিক জেনে বেরিয়ে এসে আবার ধ্যানে
ডুবে যেতে হবে। কৈশিকী যে দিকটি জানিত না সেইদিকটির পরীক্ষা তাকে দিয়ে প্রমাণ করতে
হয়েছিল তার অধ্যবসায়। বলি, তুমি যা অতিন্দ্রীয় ঐশ্বরিক ভাবে দেখো, আমি তার ভিতর অন্য
কিছু দেখতে পাই, পাওয়ার ডায়নামিক্স দেখতে পাই। যোগিনী চোখ দিয়ে হাসে,বলে, দুইয়ের মধ্যে
পার্থক্য আছে নাকি! হতভম্ব হয়ে যাই। যোগিনী তাড়া দেখিয়ে উঠে যায়, কথা হবে, এই বিষয়ে
আবার পরে কথা হবে।
No comments:
Post a Comment