তাহার
কথা
মধুপর্ণা
যোগিনী
এক এক দিন এক এক গল্প ফাঁদিয়া বসে। শিখাইতে গেলে গল্পের ভিতর দিয়া শিখাইতে হয়, তাহার
পর গান দিয়া শিখাইতে হয় এই তাহার যুক্তি। ভারতবর্ষে সাধনা একটি পেডাগজি। এই কথা সে
গাঢ় করিয়া বলে, আর গল্প গাথা, গান তাহার সুফল প্রসূত বাই প্রোডাক্ট। সেদিন বলিল, মাড়
বিজয় কি জানিস? বলি, জানি। সে সরু চোখে তাকায়। তারপর নিজের মনেই বলিতে থাকে, বুদ্ধ
বোধিলাভের আগে এক পরীক্ষার মুখে পড়িয়াছিলেন, রাক্ষসে, যত রকম অশুভ শক্তি তাহার সাধনা
ভঙ্গ করিতে আসিয়াছিল। তাহা তিনি জয় করিয়াছিলেন। বলি, অজন্তা ইলোরায় এই ঘটনার মূর্তি
খোদাই করা আছে। আরো বহু গুম্ফায় এই ছবি রয়েছে। যোগিনী বলে, রাক্ষস গুলি বাহির হৈতে
আসিল? নাকি ভিতর হৈতে বাহির হৈয়া আসিল? বলি, দ্বিতীয় কথাটি আমি মানিতে ইচ্ছুক নহি।
পরীক্ষার খাতিরে এই ভয়াবহ বীভৎসাকার আবির্ভাব মানিতে পারি। বাহির হৈতে আসিয়াছে। যোগিনী
দ্বিমত করে না। বলি, জানিস, লাইব্রেরীতে একদিন এক সন্ন্যাসিনীর সহিত আলাপ হয়, তাঁহার
সহিত আলাপ বাড়ে, তিনি কথায় কথায় বলিয়াছিলেন, ভিতরের বাধা গুলি বাহিরে নানা আকারে প্রকট
হয়। এ কথা কি সত্য? যোগিনী ছ্যাঁত করিয়া উঠে, বলে, সত্য কি মিথ্যা এই ভাবে প্রশ্ন করা
উচিত নয়। অভিজ্ঞতা, উপলব্ধী, বোধদয় এইগুলি সত্য না মিথ্যা এই প্রকারে জিজ্ঞাসিলে যায়
না জানা। ঘটে নাহয় ঘটে না, হয় নাহয় হয় না, যাহার হয় তাহার কাছে সত্য, যাহার হয় না তাহার
কাছে মিথ্যা। অভিজ্ঞতার ভিতরে আসা আর বাহিরে থাকার ভিতরে পার্থক্য এইখানে প্রাসংগিক।
অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্তরে সবাই রহিয়াছে, সবার যাত্রা আলাদা – এখন কেহ যাহা সত্য বলিতেছে
কিছুদিন পর তাহা মিথ্যা বলিবে, এখন কেহ যাহা মিথ্যা বলিতেছে কিছুদিন পর তাহা সত্য বলিবে।
অভিজ্ঞতার কোন স্তর রহিয়াছ তাহার উপর নির্ভর করে তুমি কি উপলব্ধি করিতেছ। মত বদলায়।
সবকিছু বদলায়। বলি, তুই কি আজ শুধু মাড় বিজয়ের কথা বলিতে আসিয়াছিলি। যোগিনী ঝোলার ভিতর
ভরিয়া নেয় তাহার আসন।
No comments:
Post a Comment