শরতাবকাশ
মধুপর্ণা
আর
তারপর একদিন বিকেলে শান্ত একটা বাতাস ঘুরে বেড়াবে ঘরময়। শান্ত বাতাসের নীচে শান্ত টেবিল,
তাতে বহু বহু আগের একটা শান্ত বিকেল এসে বসবে। আসন্ন পুজোর কাশের সারি, মায়ের নারকেল
নাড়ু, আর নতুন জামার গন্ধ – এইসব দিয়ে সাজানো একটা দিন বহু পুরাতন দিনের সঙ্গে এসে
জুড়ে যাবে। আনন্দের একটা গন্ধ এসে বাঙ্গালীর উঠোনে এসে ঘুরে বেড়ায় এই শরতকালে। আকাশে
মেঘ উঠিয়াছে সুনীল, মাঠে মাঠে কাশ, আর বিকেলে বিকেলে থেকে থেকে ঘনঘোর বৃষ্টি, পুজোর
মিস্টির জন্য মায়ের তোড়জোড় শুরু হয় ঠিক এই সময়। খড়ের কাঠামোয় মাটি লেগে গেছে ইতিমধ্যে।
বাইরে গেলেই একটা পুজোর বাতাস এসে ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে আচমকা। কিশোর পাঠ্য গল্প বই এর
মত রোমাঞ্চ এসে দাঁড়াবে। বাস্তব বদলে যায়, বদলে যায় সবকিছু, শুধু বদলায় না শৈশবে শেখা
বর্ণমালা, এখন ও প্রতিদিন প্রতিদিন সেই একই বর্ণমালায় দাগ বোলানো। একই অক্ষর দিয়ে শব্দ
সাজানো। শৈশবের নিত্যবৃত্ত অতীত আর ঘটমান বর্তমান দুটো শাখা নদীর মত একত্রে এসে মেশে।
আবাসনের উপরের তলায় কোনো খুদে পড়ুয়ার হাত ফস্কে এটা বেগুনি রঙের ‘আ’ এসে পড়েছিল বারান্দার
স্নেকপ্ল্যান্টের টবে। উপরের বারান্দায় কেঊ রঙ্গীন বর্ণমালা শিখছেন। বর্ণ চিনছেন। আর
নীচের ঘরে শান্ত টেবিলে সেই বর্ণমালা দিয়ে বুনে চলেছি দিন আর দৈনন্দিন।
No comments:
Post a Comment