Tuesday, September 29, 2026

 

                                                 ছাপ

                                                 মধুপর্ণা

 

যোগিনী আসিয়া হাসিয়া বসে। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলিতে থাকে, দেখা কি কি সঞ্চয় করিলি আর কি কি বর্জন করিলি, আমি সরোজমিনে তদন্ত করি ! বলি, থাক, দুইয়ের পাল্লা সমান। বর্জনের পাল্লা কিঞ্চিত ভারী। অনেক ভাবিয়া সে বলে, কি সবচেয়ে ভয়ংকর ক্রুরতা জানিস ? বলি, জানি না। তুমি রাখো তোমার যাবতীয় আবোলতাবোল কথা। যোগিনী দমিয়া যায় না, আবার বলে, সবচেয়ে সূক্ষতর ভায়োলেন্স হচ্ছে, অন্যের মানসিক গঠনকে নষ্ট করা এবং ভিন্ন মানসিক গঠনে অনুবাদ করা। যখন এই আঁচ পাবি তখন হয় প্রতিরোধ করিবি নয় পলায়ন করিবি। বলি, ছাপের কথা বলিতেছ ? হ্যাঁ, তাহাই, মনকে অক্ষত রাখিতে হইবেই, এই খানে কোপ বসাইতে দেওয়া যাইবে না। বলি, আর যে ছাপ রাঙাইয়া তোলে অন্তর বাহির! সেই ছাপ? যোগিনী একপ্রকার নাচিয়া উঠে, সেই ছাপ খানি পাইতে সাধকচিত্ত পাগলপারা। সেই রং সে দনিয়া জুড়িয়া খুঁজিয়া বেড়ায়। সেই ছাপ একবার যে পাইয়াছে তাহাকে আর রাখে কে, আর মারে কে?  বলি, সেই ছাপ পাইলে মানুষে হয় দিব্যোন্মাদ! পথবৈরাগী। বুদ্ধে দিয়াছে সেই ছাপ, চৈতন্যে দিয়াছে আর দিয়াছে রবীন্দ্রনাথ।  যোগিনী বলে, আমি ভিন্ন ছাপের কথা বলিতেছি, ছাপের পাপের কথা। অন্যকে প্রভাবিত করিয়া, তাহার মানসভূমিতে বিষের গাছ পোঁতার কথা বলিতেছি। নারীদের মানসভূমি উচ্চফলনশীল। সেই ভূমিতে গাছ পুঁতিতে চায় বিষাক্ত আত্মারা। এইটা  হৈল নরকের রাস্তা। নীচে নামতে নামতে একেবারে তলিয়ে যাবার দরজা এইখানে শুরু হয়। প্রশ্ন করি, তুই জানিলি কি প্রকারে! এইসব প্রশ্নে সে চটিয়া যায়। সাবধান করিতে নানা কথা বলি, শুনিলে শোন, না শুনিলে দুর হৈয়া যা। বলি, শুনিতেই তো আসিয়াছি। তুমি যাহা বলিতেছ, তাহা শুধু শুনিতেছি তাহা নহে, জানিয়াছি এইসব অভিজ্ঞতা দিয়া। যোগিনী বলে, তুই কি ভাবিস, মানুষের কেবল বদন দেখিয়া ক্ষান্ত দিই সামনে এলে কেউ। তাহার ভিতর বাহির, মনোভাব, অতীত পড়িয়া ফেলিতে পারি। প্রবনতা, সম্ববনা,উদ্দেশ্য বিধেয় মুখ দেখিয়া বলিয়া দিতে পারি। তোকে দেখিয়া বুঝিয়াছিলাম সূক্ষতর ভায়োলেন্স অভিজ্ঞতার ভিতর আছে তোর।বলি, শুধু অভিজ্ঞতা নয়, প্রতিরোধ ও আছে। সূক্ষতর ভায়োলেন্স আরো সূক্ষ করাত দিয়া কাটিয়াছি। যোগিনী বলে, খুব সাবধান, মানসিক গড়ন আগলাইয়া রাখিতে হৈবে যে কোনো মূল্যে। কোনো কোনো সম্প্রদায় এই ভায়লেন্স খুব উদ্দেশ্য নিয়া, ছক কষিয়া করিতেছে। খুব সাবধান। বলি, উদ্দেশ্য বুঝিয়া তাহাদের পালটা দিবার ক্ষমতা বহুদিন আগে জোগাড় করিয়া লৈয়াছি। ভাবিও না, এখন নিজে বাঁচিব, অন্যদের বাঁচাইব। 

No comments:

Post a Comment

                                          উৎসবের মরসুম                                             মধুপর্ণা সেদিন পড়ন্ত বিকেল, আসন্ন শীত...