দূর হতে
মধুপর্ণা
তারপর
একদিন সকালের বাতাস একটা সময়ের সাথে আরেকটা সময়কে সেলাই করে দেয়, মাঝখানের বিষাক্ত
সময় মিলিয়ে যায় হাওয়ায়, তার প্রভাব, কার্যকারণ সমস্তই একটা সিনেমার মত স্কিপ করে চলে
যাওয়া যায় সবথেকে ভাল গানটায়, অথবা সুন্দর সীনটায়। কাপটা ভর্তি হয়ে যায় স্বচ্ছ জলে,
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো তারা বর্জনযোগ্য, ক্ষমাযোগ্য নয়। নির্মমতা
একটা কাটারীর মত। পচনশীল যা কিছু কেটে ফেলে দিতে হয়, যাহা কিছু রহিল তাহা লৈয়া আবার
সামনে যাত্রা। অযুক্তির মত বিষাক্ত, অসৌন্দর্য্যের মত অসুস্থ কিছু নাই – যোগিনী এই
কথা বলিয়া একটা বইয়ের পাতা খুলিয়া চুপচাপ পড়িতে থাকে। অপরিমিতি অশালীন – এই কথা যোগ
করে শেষে। ডিজায়ার টু বি সীন – দ্রষ্টব্য হয়ে ওঠার বাসনা – একটা প্যাটার্ন- এই মর্মে
কিছু লিখিতেছি- বলিয়া সে পুনরায় নীরব হৈয়া যায়। তাহার কথা শুনিতে শুনিতে এক একটা ধারণা
ছুঁইয়া যায়। সূত্র গুলি সে ধরাইয়া দেয়, আর তাহা হৈতে ধীরে ধীরে সুতা খুলিতে থাকে। তাহার
সাদা শাড়ি বাতাসের ধুলায় মলিন হৈয়া গিয়াছে, তাহার চুল পরিচর্যার অভাবে হৈয়াছে রুক্ষ,
তাহার ত্বক পালিশের অনুপস্থিতিতে হৈয়াছে খসখসে, তাহার চোখ দুইটি কেবল পড়াশোনা করিয়া
আর বিশ্বভুবন দেখিয়া উজ্জ্বল হৈয়া উঠিয়াছে। তাহার অন্তকরণ চকচক করিতেছে। বাহ্যিক কিছুতে
তাহার মনোযোগ নাই। সমস্ত মন সে ধাবিত করিয়াছে, একযোগে, তড়িৎ গতিতে। ছুটিয়া চলিয়াছে
তাহার একটি অংশ তাহার নিকট বাস্তব ছাড়িয়া, দেহ ছাড়িয়া, পার্থিব আশা আকাঙ্ক্ষা ছাড়িয়া,
প্রাপ্তি ছাড়িয়া। বহুদুর চলিয়া গিয়াছে। দূরে দাঁড়াইয়া সে তাহার ছায়াকে কাজ করিতে দেখে,
বিরক্ত হৈতে দেখে, ঘুমাইতে দেখে। যোগিনীকে প্রতিদিন যত দেখি ততই আগ্রহ বাড়িতে থাকে।